বল বীর
বল উন্নত মম শির!
শির, নেহারি আমারি
নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’র রচয়িতা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তখন ব্রিটিশ জামানা। শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলছে। ব্রিটিশ বেনিয়াদের শাসনের বিরুদ্ধে কবির কবিতা, গান, গদ্য ও নাটকে বিদ্রোহীর সুর বেজে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এ কবিতাকে জনপ্রিয় করে তোলে। কালজয়ী এ কবিতাটি ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম প্রকাশ পায়, সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায়। মাসিক মোসলেম ভারত ও প্রবাসী নামক সাহিত্য পত্রিকায়ও এ কবিতা ছাপা হয়। তিনি ভারতবাসীর কাছে বিদ্রোহী কবি হিসেবে স্বীকৃতি পান।
কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীনার প্রথম কবিতা ছিল ‘বিদ্রোহী’।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জ থানার চুরুলিয়া গ্রামে ১৮৯৯ সালের ২৫ মে খ্রি. বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জৈষ্ঠ জন্ম নেন। কাজী ফকির আহম্মদ তার পিতা আর জাহেদা খাতুন মা।
বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি ধ্রুবতারা। তার কবিতা, গান, উপন্যাস ও গল্পে বাঙালি জেনেছে বীরত্বের ভাষা, দ্রোহের মন্ত্র। বাঙালির সব আবেগ, অনুভূতিতে জড়িয়ে আছেন চির বিদ্রোহী এ কবি। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। তিনি প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও বেশির ভাগই সুরারোপ করেছেন।
১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত কর্মজীবনের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক করপোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদারের পদে উন্নীত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু করেন। মুক্তি নামের প্রথম তার কবিতা।
১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে জবানবন্দি দেন। তার এ জবানবন্দি বাংলা সাহিত্যে ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে।
৪৩ বছর বয়সে পিকস্ ডিজিজে আক্রান্ত হন ও বাকশক্তি হারান। ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্য কর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। ১৯৭২ সালে তাকে বাংলাদেশে আনা হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জন্ম জয়ন্তীতে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’।
নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। সরকার নজরুল বর্ষ পালনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসন শিল্পকলা একাডেমীতে বিকাল ৪ টায় আলোচনা সভা ও ৫টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বেলা ১১ টায় কবির স্মৃতির স্মারক ও গ্রš প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। শিশু একাডেমী এক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ বেতার, খুলনা এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। নজরুল একাডেমী দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে। নজরুল সঙ্গীত পরিষদ আজ বিকাল ৫ টায় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

